ডেভিড কপারফিল্ড : চার্লস ডিকেন্স বইয়ের প্রচ্ছদ

ডেভিড কপারফিল্ড : চার্লস ডিকেন্স

লেখক: চার্লস ডিকেন্স

পৃষ্ঠা: 104

ISBN: 978-984-427-147-0

বইয়ের পরিচয়

রকমারি থেকে

চার্লস ডিকেন্স ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইংরেজ ঔপন্যাসিক, যিনি সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক মূল্যবোধকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে সাহিত্য রচনা করেছেন। তিনি ১৮১২ সালের ৭ই ফেব্রæয়ারি ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তিনি দারিদ্র্য ও কষ্টের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন, যা তার পরবর্তী লেখালেখিতে স্পষ্ট প্রভাব ফেলে। আর্থিক দুরবস্থার কারণে ছোটবেলায় তাকে একটি জুতার কারখানায় কাজ করতে হয়েছিল এবং এই অভিজ্ঞতাই তাকে সমাজের বঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের জীবন সম্পর্কে সহানুভ‚তিশীল করে তোলে। ডিকেন্সের সাহিত্যজীবন শুরু হয় ধারাবাহিক উপন্যাস প্রকাশের মাধ্যমে, যা পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে-অলিভার টুইস্ট, ডেভিড কপারফিল্ড, গ্রেট এক্সপেকটেশনস, আ টেল অব টু সিটিস ও বিøক হাউজ। এসব রচনায় তিনি দারিদ্র্য, শিশুশ্রম, অন্যায় বিচারব্যবস্থা, শ্রেণিবৈষম্য এবং শিল্পবিপ্লব-পরবর্তী সমাজের অমানবিক দিকগুলো শক্তিশালী ভাষায় তুলে ধরেছেন। তার চরিত্রগুলো জীবন্ত, বহুমাত্রিক ও মানবিক দুর্বলতায় পূর্ণ, যা পাঠকের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। ডিকেন্স ছিলেন ব্যঙ্গাত্মক ও আবেগপ্রবণ লেখক, যিনি হাস্যরসের মাধ্যমে সমাজের কুসংস্কার ও অন্যায়ের সমালোচনা করতেন। তিনি একজন সমাজসংস্কারকও ছিলেন, যিনি দরিদ্রদের জীবনমান উন্নয়নের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। ১৮৭০ সালের ৯ই জুন মৃত্যুবরণকারী ডিকেন্সের সাহিত্যকীর্তি আজও বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়।

লেখক পরিচিতি

চার্লস ডিকেন্স

1812 – 1870

চার্লস জন হাফ্যাম ডিকেন্স (ইংরেজি: Charles John Huffam Dickens; জন্ম: ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮১২ – মৃত্যু: ৯ জুন, ১৮৭০) ছিলেন ঊনবিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইংরেজ ঔপন্যাসিক। তাকে ভিক্টোরিয়ান যুগের শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক হিসেবে মনে করা হয়। ডিকেন্স জীবদ্দশাতেই তার পূর্বসূরি লেখকদের তুলনায় অনেক বেশি জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। মৃত্যুর পরও তার জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ থাকে। তার প্রধান কারণ হচ্ছে, ডিকেন্স ইংরেজি সাহিত্যে প্রবাদপ্রতিম বেশ কয়েকটি উপন্যাস ও চরিত্র সৃষ্টি করেছিলেন। তার অধিকাংশ রচনাই পত্র-পত্রিকায় মাসিক কিস্তিতে প্রকাশিত হত। এই পদ্ধতিতে রচনা প্রকাশকে জনপ্রিয় করে তোলার পিছনেও ডিকেন্সের কিছু অবদান আছে। অন্যান্য লেখকগণ ধারাবাহিক কিস্তি প্রকাশের আগেই উপন্যাস শেষ করতেন, কিন্তু ডিকেন্স কিস্তি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী অধ্যায়গুলি রচনা করে যেতেন। এই পদ্ধতিতে উপন্যাস রচনার ফলে তার উপন্যাসগুলির গল্পে একটি বিশেষ ছন্দ দেখা যেত। অধ্যায়গুলির শেষটুকু হত রহস্যময়, যার জন্য পাঠকেরা পরবর্তী কিস্তিটি পড়ার জন্য মুখিয়ে থাকত। তার গল্পগ্রন্থ ও উপন্যাসগুলি এতই জনপ্রিয় যে এগুলি কখনই আউট-অফ-প্রিন্ট হয়ে যায়নি। লিও টলস্টয়, জর্জ অরওয়েল, জি. কে. চেস্টারটন প্রমুখ লেখকবৃন্দ ডিকেন্সের রচনার বাস্তবতাবোধ, রসবোধ, গদ্যসৌকর্য, চরিত্রচিত্রণের দক্ষতা ও সমাজ-সংস্কার চেতনার উচ্চ প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে হেনরি জেমস, ভার্জিনিয়া উল্‌ফ প্রমুখ লেখকবৃন্দ ডিকেন্সের রচনার বিরুদ্ধে ভাবপ্রবণতা ও অবাস্তব কল্পনার অভিযোগ এনেছেন। সাহিত্যিক জীবনে তিনি অনেকগুলো বিখ্যাত উপন্যাস রচনা করে গিয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ডেভিড কপারফিলড, আ টেল অব টু সিটিজ, অলিভার টুইস্ট, দি ওল্ড কিউরিয়াসিটি শপ ইত্যাদি।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →