বইয়ের পরিচয়

মানুষের জীবনটা এককথায় বলতে গেলে অনিশ্চিত। বেঁচে থাকার জন্য বহুমাত্রিক, বহুতান্ত্রিক, এবং বহুরূপী জীবনে প্রতিটি মানুষেরই রয়েছে নিজস্ব স্বতন্ত্র এবং বৈশিষ্ট্য। সত্য ও সুন্দরের প্রত্যয়দীপ্ত লেখক কাজী হারুন প্রাত্যহিক জীবনের বাস্তবতার নিরিখে নিজের নান্দনিক সৃষ্টি শৈলীকে উপস্থাপন করেছেন এক অনুপম অনুসন্ধিতসু চিত্রকল্পের মাধ্যমে। জীবন গল্পের চলমান বাস্তবতাকে নিয়ে ভাবনার ক্যানভাসে গদ্য কিংবা পদ্যে রূপান্তরিত করার কারিগর তার প্রতিটি লেখায় দিয়েছেন অসাধারণ আবেগতাড়িত নৈপুণ্যশৈলী। প্রতিটি মানুষের সম অধিকারে বিশ্বাসী স্বাধীন, সাহসী, স্বপ্নচারী, সৎ ও কর্তব্যপায়ন মানুষটি শিশুবৎ সারল্যে উপস্থাপন করেছেন সমাজ ও মানবিকতার নিরিখে তার চিন্তাশক্তি। সমাজ, সংস্কৃতি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ, ধর্ম ও মানবিকতা, স্রষ্টা, সৃষ্টি, মানুষ, জীবন, মৃত্য, হতাশা কিংবা অনুভূতিকে ছুঁয়ে যেতে পারে এমন কি নেই এই কাব্যের বইতে!এ বইয়ের প্রতিটি কবিতা ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে সময় ও সচেতনতার নিরিখে সত্যাশ্রিত ইতিহাসের আলোকে জন্ম নেয়া। সত্য ও সৌন্দর্যের একনিষ্ঠ চিন্তাশীল কবি ও প্রাবন্ধিক, সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় সত্য, সুন্দর ও মানবিকতা নিয়ে উপসংহারে গেছেন তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিশৈলীতে।‘দুই দুয়ারী’ নামটি কবি’র এই বইয়ের একটি কবিতার নামানুসারে গৃহীত। এছাড়া কবি’র প্রথম কবিতার বই ‘চতুর মুনশী’ এবং প্রবন্ধের বই ‘আপন আলোর বৃত্ত’ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে এবং পাঠকের হৃদয় জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছে। চিন্তাশীল মানবিক কবি ও প্রাবন্ধিক কাজী হারুনুর রশীদের লেখালেখির এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে কবি যদি আপনার মানবিকতার দিগন্তকে একটুও ছুঁয়ে যেতে পারে তবেইতো তাঁর সার্থকতা।

লেখক পরিচিতি

হুমায়ূন আহমেদ

1948 – 2012

হুমায়ূন আহমেদ (১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ – ১৯ জুলাই ২০১২) ছিলেন একজন বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় লেখক বলে গণ্য করা হয়। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। অন্য দিকে তিনি আধুনিক বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত। মিসির আলি এবং হিমু তার সৃষ্ট অন্যতম দুটি জনপ্রিয় চরিত্র। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন এবং নর্থ ডাকোটা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিমার রসায়ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। হুমায়ূন আহমেদ রচিত প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। সত্তর দশকের সময় থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তার গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনারহিত। তার অভূতপূর্ব সৃষ্টি হিমু এবং মিসির আলি ও শুভ্র চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →