বইয়ের পরিচয়
নোবেলপ্রাপ্তির পর বিশ্বের দরবারে তিনি তখন সুপরিচিত, স্বনামধন্য। ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক ইত্যাদি বিভিন্ন দেশে বক্তৃতা দিয়েছেন। উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বভারতীর জন্য অর্থ সংগ্রহ। আর তাঁর বক্তৃতার বিষয়বস্তু ছিল মূলত ভারতীয় দর্শন এবং তাঁর নিজস্ব ধর্মভাবনা। আশৈশব উপনিষদের প্রভাবে লালিত রবীন্দ্রনাথ তার মর্ম অনুধাবন করেছিলেন এবং তার প্রতি গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। বিদেশে প্রদত্ত তাঁর একাধিক ভাষণে উপনিষদের প্রসঙ্গ এবং তাঁর জীবনে ও মননে তার প্রভাব একাধিকবার উল্লেখিত হয়েছে। আর সেই সঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে তাঁর নিজস্ব ধর্মভাবনা যার মূলে ছিল প্রকৃতির প্রতি এক অতি নিবিড়, অতি গভীর প্রেম। প্রকৃতির দৈনন্দিন কার্যকলাপ ও প্রকাশের .. সঙ্গে যেন নাড়ির যোগ অনুভব করতেন। তিনি। তাঁর নিজের ভাষায়-‘প্রকৃতির.... মধ্যে যে এমন একটা গভীর আনন্দ? পাওয়া যায়, সে কেবল তার সঙ্গে আমাদের একটা নিগুঢ় আত্মীয়তা অনুভব করে। এই তৃণগুল্মলতা, জলধারা, বায়ুপ্রবাহ, এই ছায়ালোকের আবর্তন, জ্যোতিষ্কদলের প্রবাহ, পৃথিবীর অনন্ত প্রাণীপর্যায়, এই সমস্তের সঙ্গেই আমাদের নাড়ী-চলাচলের যোগ রয়েছে...।