বইয়ের পরিচয়

আষাঢ়ের সারাদিন বৃষ্টি বর্ষণের পর বিকালবেলা আকাশের সূর্য সামান্য উঁকি দিলে বোবা লোকটি তার বাসা থেকে কিছুটা দূরে ডাস্টবিনের পাশে কয়েকটি কুকুরকে তাড়াতে গিয়ে একটা ফুটফুটে নবজাতক ছেলেসন্তান দেখতে পায়। বাচ্চাশিশুটিকে দেখে বোবা লোকটি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। চেঁচামেচির শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন ত্বরিতগতিতে এগিয়ে এসে প্লাস্টিক কাগজে মোড়ানো তাওয়েল গায়ে প্যাঁচানো চোখ-নাক বের করা কাত অবস্থায় নবজাতক সন্তান দেখতে পায়। অনেকের সাথে একজন তিরিশোর্ধ্ব মহিলাও এলো।মহিলাটি শিশুটির শরীর হতে প্লাস্টিকের কাগজ সরিয়ে নেয়। শিশুটির শরীর কিছুটা ঠান্ডা হয়ে গেছে। শিশুটি ক্ষীণ স্বরে কাঁদছে। কান্নার শব্দ তেমন শোনা যাচ্ছে না, কিন্তু চোখ দুটো পৃথিবীর আলো অবলোকন করছে। বাচ্চাটিকে নিয়ে সবার মধ্যে কিউরিওসিটি। উপস্থিত লোকের অনেকে ভাবছে যে, বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরে সম্ভবত শিশুটিকে এখানে কেউ রেখেছে। সবাই হায় হায় করে বলতে লাগল, 'এতো সুন্দর নবজাতককে কেউ এভাবে ফেলে যায়? যে বা যারা ফেলে গেছে তারাই বা কোন ধরনের মানুষ, কতটা পাষাণ ও নিষ্ঠুর।

লেখক পরিচিতি

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

1934 – 2012

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ – ২৩ অক্টোবর ২০১২) বিশ শতকের শেষভাগে সক্রিয় একজন প্রথিতযশা বাঙালি সাহিত্যিক। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুর পূর্ববর্তী চার দশক তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসাবে সর্ববৈশ্বিক বাংলা ভাষার জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বাংলা ভাষায় এই ভারতীয় সাহিত্যিক একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার, সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসাবে অজস্র স্মরণীয় রচনা উপহার দিয়েছেন। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার জীবনানন্দ-পরবর্তী পর্যায়ের অন্যতম প্রধান কবি। একই সঙ্গে তিনি আধুনিক ও রোমান্টিক। তার কবিতার বহু পঙ্‌ক্তি সাধারণ মানুষের মুখস্থ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় "নীললোহিত", "সনাতন পাঠক", "নীল উপাধ্যায়" ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম অধুনা বাংলাদেশের মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায়। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি কলকাতায় চলে আসেন। ১৯৫৩ সাল থেকে তিনি কৃত্তিবাস নামে একটি কবিতা পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ একা এবং কয়েকজন এবং ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম উপন্যাস আত্মপ্রকাশ প্রকাশিত হয়। তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই হল আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি, যুগলবন্দী (শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে), হঠাৎ নীরার জন্য, রাত্রির রঁদেভূ, শ্যামবাজারের মোড়ের আড্ডা, অর্ধেক জীবন, অরণ্যের দিনরাত্রি, অর্জুন, প্রথম আলো, সেই সময়, পূর্ব পশ্চিম, ভানু ও রাণু, মনের মানুষ ইত্যাদি। শিশুসাহিত্যে তিনি "কাকাবাবু-সন্তু" নামে এক জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজের রচয়িতা। মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত তিনি ভারতের জাতীয় সাহিত্য প্রতিষ্ঠান সাহিত্য অকাদেমি ও পশ্চিমবঙ্গ শিশুকিশোর আকাদেমির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →