বইয়ের পরিচয়

"নিঃসঙ্গতার একশ বছর" বইটির শেষের ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতাে আর কোনাে উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কি না সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গােটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন—সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনাে দেখা যায় নি।বিষয়গত দিক থেকে এটি একটি সামগ্রিক উপন্যাস, সেটা এই অর্থে যে এখানে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এক রুদ্ধ জগৎ ও এর সঙ্গে জড়িত সবকিছুর বর্ণনা দিয়েছে, যেমন ব্যক্তি ও যৌথ, কিংবদন্তি ও ইতিহাস, দৈনন্দিন ও পৌরাণিক। আর এর আকৃতির মধ্যে বিষয়বস্তুর মতােই এর রচনা ও কাঠামাের আছে অনন্য স্বাভাবিকতা যা একই সঙ্গে অভাবনীয় ও স্বয়ংসম্পূর্ণ।—মারিও বার্গাস যােসাসের্বান্তেসের ডন কিহােতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মােচন।—পাবলাে নেরুদা

লেখক পরিচিতি

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ

1927 – 1982

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস (জন্ম ৬ মার্চ, ১৯২৭, আরাকাটাকা, কলম্বিয়া—মৃত্যু ১৭ এপ্রিল, ২০১৪, মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো) ছিলেন একজন কলম্বিয়ান ঔপন্যাসিক এবং বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক। ১৯৮২ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন, মূলত তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা " Cien años de soledad" (১৯৬৭; " একশ বছর নির্জনতা ") এর জন্য। এই বিশ্ব বিখ্যাত কলম্বীয়, স্প্যানিয় ভাষী ঔপন্যাসিক বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধের সবচেয়ে আলোচিত, সবচেয়ে প্রভাবশালী লেখক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। জীবনের শেষ দুই যুগ তিনি ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচেছিলেন। এ সময় তার লেখালেখি কমে আসে; জনসংযোগ ও ভ্রমণ হয়ে পড়ে সীমিত। এমনকী ২০০২-এ আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ড লিভিং টু টেল আ টেইল প্রকাশের পর পরিকল্পিত ২য় এবং ৩য় খণ্ড আর রচনা করা হয়ে ওঠেনি। তিনি দুরারোগ্য লিম্ফেটিক ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ২০১২'র জুলাই থেকে তিনি স্মৃতি বিনষ্টিতে আক্রান্ত হন। মৃত্যুকালে তিনি একটি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি রেখে গিয়েছেন। সাহিত্যবিশারদদের মতে তিনি হোর্হে লুইস বোর্হেস এবং হুলিও কোর্তাসারের মতোই বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দক্ষিণ আমেরিকান কথাসাহিত্যিক। একই সঙ্গে জনপ্রিয় এবং মহৎ লেখক হিসেবে চার্লস ডিকেন্স, লিও তলস্তয় ও আর্নেস্ট হেমিংওয়ের সঙ্গে তার নাম একসঙ্গে কাতারে উচ্চারিত হয়। ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার প্রদানের সময় সুইডিশ একাডেমি এমত মন্তব্য করেছিল যে তার প্রতিটি নতুন গ্রন্থের প্রকাশনা বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মতো। জনমানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে তিনি ছিলেন বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল প্রবাদপ্রতীম।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →