বইয়ের পরিচয়

যখন জীবন টানাপোড়েনে জর্জরিত,অন্ধকারে নিমজ্জিত, দুঃখে ভারাক্রান্ত, সুখযখন উদয় হওয়ার আগেই সমুদ্রেরঅন্ধকারে স্নান করে, বিষণ্নতার পাহাড়বুকটা খাবলে ধরে... তখন একটা কথাইমনে পড়ে, অন্ধকারে যে বসবাস করে মৃদুআলোতে তাহার চোখ ঝলসাইয়া যায়।”প্রেম যখন কামনার ঘুরে পৌঁছে যায়, কাছেপাওয়ার আশাটা যখন তীব্র হয়ে দাঁড়ায়,সমাজ যখন বাধা-বিপত্তিতে ভেতরেরপ্রেমকে দাবানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়,তখন এই কথাই মনে জেগে ওঠে,‘আমারে নিবা মাঝি লগে?এ উপন্যাসে একদিকে রয়েছে যেমনসমাজের নিম্নশ্রেণীর মানুষের সুখ-দুঃখ,হাসি-কান্না... তেমনি নদী তীরবর্তী জেলেসম্প্রদায়ের জীবন বাস্তবতা। এছাড়াওউপন্যাসে আছে প্রচলিত মূল্যবোধ বিরোধীমানুষের অবদমিত ইচ্ছার অদম্য প্রকাশ ।

লেখক পরিচিতি

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

1908 – 1956

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯ মে ১৯০৮ – ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬) ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তার প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবী জুড়ে মানবিক মূল্যবোধের চরম সংকটময় মুহূর্তে বাংলা কথা-সাহিত্যে যে কয়েকজন লেখকের হাতে সাহিত্য জগতে নতুন এক বৈপ্লবিক ধারা সূচিত হয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তার রচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল মধ্যবিত্ত সমাজের কৃত্রিমতা, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, নিয়তিবাদ ইত্যাদি। ফ্রয়েডীয় মনঃসমীক্ষণ ও মার্কসীয় শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্ব দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন যা তার রচনায় ফুটে উঠেছে। জীবনের অতি ক্ষুদ্র পরিসরে তিনি রচনা করেন চল্লিশটি উপন্যাস ও তিনশত ছোটোগল্প। তার রচিত পুতুলনাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, পদ্মা নদীর মাঝি ইত্যাদি উপন্যাস ও অতসী মামী, প্রাগৈতিহাসিক, ছোট বকুলপুরের যাত্রী ইত্যাদি গল্পসংকলন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলে বিবেচিত হয়। ইংরেজি ছাড়াও তার রচনাসমূহ বহু বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর, মাত্র আটচল্লিশ বছর বয়সে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী এই কথা সাহিত্যিকের জীবনাবসান ঘটে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →