বইয়ের পরিচয়

রাজশেখর বসু তাঁর সব গল্পই লিখেছিলেন পরশুরাম ছদ্মনামে ৷ বাংলাসাহিত্যে এই অভিনব স্বাদের গল্প বোনার কোনও উত্তরাধিকারী আজও আসেননি ৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘নিতান্ত নিয়ম ভঙ্গ করিয়া’ পরশুরামের প্রথম বই ‘গড্ডলিকা’ পড়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সমালোচনা লেখেন, যা পড়ে প্রফুল্লচন্দ্র রায় মজা করে তাঁর স্নেহের সহকর্মী রাজশেখরের হাত থেকে ‘কুঠার’ কেড়ে নিতে কবিকে দীর্ঘ চিঠি দেন ৷ রবীন্দ্রনাথ এর জবাবে চিঠির একেবারে শেষে মোক্ষম কথাটি লেখেন, ‘…আপনার বেঙ্গল কেমিক্যালের এই মানুষটি একেবারেই কেমিক্যাল গোল্ড নন, ইনি খাঁটি সোনা ৷…’ রাজশেখর বসুর জীবিতকালে প্রকাশিত হয় ৯টি গল্পগ্রন্থ—গড্ডলিকা, কজ্জলী, হনুমানের স্বপ্ণ, গল্পকল্প, ধূস্তুরী মায়া, কৃষ্ণকলি, নীল তারা, আনন্দীবাঈ ও চমৎকুমারী ৷ মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ৯৭টি গল্প ৷ তাঁর মৃত্যুর পরে পাওয়া আরও ২টি গল্প ‘আমের পরিণাম’, ‘আনন্দ মিস্ত্রী’ এবং অসমাপ্ত গল্প ‘জামাইষষ্ঠী’ যুক্ত হয়ে সবমিলিয়ে ১০০ গল্প একত্রিত হয়েই পরশুরাম গল্পসমগ্র ৷

লেখক পরিচিতি

রাজশেখর বসু (পরশুরাম)

1880 – 1960

রাজশেখর বসু (মার্চ ১৬, ১৮৮০ - এপ্রিল ২৭, ১৯৬০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক, অনুবাদক, রসায়নবিদ ও অভিধান প্রণেতা। তিনি পরশুরাম ছদ্মনামে তাঁর ব্যঙ্গকৌতুক ও বিদ্রুপাত্মক কথাসাহিত্যের জন্য প্রসিদ্ধ। গল্পরচনা ছাড়াও স্বনামে প্রকাশিত কালিদাসের মেঘদূত, বাল্মীকি রামায়ণ (সারানুবাদ), কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাসকৃত মহাভারত (সারানুবাদ), শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতা ইত্যাদি ধ্রুপদি ভারতীয় সাহিত্যের অনুবাদগ্রন্থগুলিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। চলন্তিকা অভিধান প্রণয়নের জন্য তিনি সর্বাধিক পরিচিতি। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে রবীন্দ্র পুরস্কারে ও ভারত সরকার পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে আনন্দীবাঈ ইত্যাদি গল্প গ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →