বইয়ের পরিচয়

বিংশ শতাব্দীর প্রথম সময়ের ভারতের কলকাতার পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাস। আমাদের অতিপরিচিত প্রাত্যহিক সুখ-দুঃখের জীবনকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এমন কৌশলে পাঠকদের সামনে হাজির করেন যে পাঠক নিজের অজান্তেই সেই জীবনের সহযাত্রী হয়ে উঠে।এমনই একটি উপন্যাস 'পরিণীতা', যার মূল বিষয়বস্তু হলো যন্ত্রণাকাতর দুঃসহ কেরানিজীবন। ষাট টাকা মাসিক বেতনের কন্যাদায়গ্রস্ত অসহায় ব্যাংক-কেরানি গুরুচরণের জীবনকাহিনী চিত্রিত হয়েছে উপন্যাসটিতে। এছাড়াও রয়েছে ললিতা, শেখর আর গিরিনের সম্পর্কের টানাপোড়েন, যার মাধ্যমে লেখক মানবমনের ইন্দ্রিয়বৃত্তের দ্বন্দ্বের রূপ দেখিয়েছেন।শরৎচন্দ্র এখানে ঘটিয়েছেন ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র, সমাজ ও সমকালকে ধারণ করা এমনি এক চিত্রায়ণ, যা সহজেই পাঠক এবং সমালোচককে আকৃষ্ট করে।

লেখক পরিচিতি

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

1876 – 1938

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬ – ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮ ; বাংলা ৩১ ভাদ্র ১২৮৩ - ২ মাঘ ১৩৪৪ বঙ্গাব্দ) ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক, ও গল্পকার। তিনি দক্ষিণ এশিয়া এবং বাংলা ভাষার অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। লেখালিখির গুরু মানেন ফরাসি সাহিত্যিক এমিল জোলাকে। তার অনেক উপন্যাস ভারতবর্ষের প্রধান ভাষাগুলোতে অনূদিত হয়েছে। বড়দিদি (১৯১৩), পরিণীতা (১৯১৪), পল্লীসমাজ (১৯১৬), দেবদাস (১৯১৭), চরিত্রহীন (১৯১৭), শ্রীকান্ত (চারখণ্ডে ১৯১৭-১৯৩৩), দত্তা (১৯১৮), গৃহদাহ (১৯২০), পথের দাবী (১৯২৬), শেষ প্রশ্ন (১৯৩১) ইত্যাদি শরৎচন্দ্র রচিত বিখ্যাত উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য তিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে খ্যাত। তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক পান৷ এছাড়াও, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ডিলিট' উপাধি পান ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে। শরৎচন্দ্রের অনেকগুলি উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে, এবং সেগুলো প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →