প্রথম প্রবাস
পৃষ্ঠা: 152
ISBN: 8170790034
বইয়ের পরিচয়
ভারতবর্ষে জরুরী অবস্থা চলাকালীন এই লেখা ধারাবাহিকভাবে অমৃত সাপ্তাহিক পত্রিকাতে যখন লিখি তখন এই রকমই ইচ্ছা ছিল যে, আমাদের দেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের নানা দিকের তুলনামূলক আলোচনাসমেত একটি হালকা সুখপাঠ্য ভ্রমণ উপন্যাস লিখব।কিন্তু তুলনা করতে গিয়েই বিপত্তি বাধল। প্যারাগ্রাফের পর প্যারাগ্রাফ সেন্সরড্ হতে লাগল এবং তার বদলে ছবি, স্কেচ ও ফটোগ্রাফ ছাপা হতে লাগল লেখার মধ্যে মধ্যে। এরকম অপমানকর অবস্থায় লেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না বলে যখন লেখা মাঝপথে বন্ধ করে দিলাম প্রায় বিদ্রোহ করেই; তখন সম্পাদক বিজ্ঞাপন দিলেন যে, লেখকের অসুস্থতার কারণে লেখা আর সম্ভব হচ্ছে না। সুস্থ অবস্থায় অনেকানেক আরোগ্য-কামনা এল চিঠি ও ফোন মারফৎ। ভালোই লেগেছিল।অত্যন্ত ভদ্র ও বিনয়ী সম্পাদক খুবই হিতাকাঙ্ক্ষী ছিলেন আমার; স্নেহও করতেন খুব। তিনি বললেন, যা হল ভালোই হল, নইলে বিলক্ষণ বিপদে পড়তেন। কিন্তু বিপদে পড়লামই। অতর্কিতে একদিন সন্ধ্যেবেলায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিসের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের দু-গাড়ি অফিসার এসে আমার সম্ভাব্য ও অসম্ভাব্য সব বাসস্থানে একসঙ্গে তল্লাসী চালালেন। অবশ্য, অত্যন্ত ভদ্রভাবেই। আমি যে বাড়িতে ছিলাম না, সেটা তাদের এবং আমার দু-পক্ষেরই মঙ্গলের কারণ হয়েছিল। আমি বাড়ি থাকলে কী কাণ্ড ঘটত ঠিক বলা যায় না।যে কারণ, আমার আত্মীয়দের কাছে মৌখিকভাবে ব্যক্ত করেছিলেন ওঁরা, সেটা, এদেশীয় পুলিসী ট্রাডিশানুসারেই; সর্বৈব মিথ্যা। মিথ্যা বলে, আমি তো জানিই; ওঁরাও হয়তো জানতেন। সে কারণেই, এ বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, মূল 'প্রথম প্রবাসে' আমাদের দেশীয় রাজনীতিকদের যে সমালোচনা করেছিলাম, সেই সমালোচনার জন্যেই এই হয়রানি। এই কারণহীন ও অপমানকর হয়রানির জন্যে কোনো কমিশানের কাছে নালিশ করে নায়ক হওয়ার অভিপ্রায় আমার ছিল না এবং নেইও। নালিশ এই প্রথমবারই জানালাম পাঠক- পাঠিকাদের কাছে। তাঁদের চেয়ে বড় হিতাকাঙ্ক্ষী ও অভিভাবক লেখকের আর কে আছেন?আমি ইংরিজী ছাড়া বিদেশী অন্য কোনো ভাষা জানি না। তাই বিভিন্ন বিদেশী ভাষার নাম ও জায়গা বিশেষের উচ্চারণে এবং হয়তো বানানেও কিছু কিছু ভুল থাকা অসম্ভব নয়। এই লেখা পাঠকদের মনোমত যদি হয়, তাহলে পরে, কানাডা, ইউ.এস.এ., হাওয়াই, আফ্রিকা এবং জাপানের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখার ইচ্ছা রইল। তবে, কবে যে হয়ে উঠবে তা বলা মুশকিল। পাঠক-পাঠিকাদের মতামত, এই বই সম্বন্ধে জানতে পেলে খুশি হব।