বইয়ের পরিচয়

"প্রেম ও কলেরা" বইয়ের ফ্ল্যাপের থেকে:প্রেম ও কলেরা নােবেল বিজয়ী লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের উপন্যাস ‘লাভ ইন দি টাইম অব কলেরা’র কবীর চৌধুরীকৃত বাংলা অনুবাদ। উপন্যাসটি শুধু মার্কেজের একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাসরূপেই নয়, বিশ্বসাহিত্যের একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস রূপেও ব্যাপক স্বীকৃতি লাভ করেছে। উপন্যাসের তিন মুখ্য চরিত্র ডাক্তার জুভেনাল উরবিনাে, ফ্লোরেন্টিনাে আরিজা ও ফারমিনা ডাজার জীবন পঞ্চাশ বছর ধরে পরস্পরের জীবনের সঙ্গে নানা গ্রন্থিতে জড়িয়ে যায়, রাগ-অনুরাগ ও দ্বন্দ্বময় আবেগ-অনুভূতির মধ্যে দিয়ে তাদের সম্পর্ক যে পরিণতির দিকে অগ্রসর হয় তা পাঠককে বিস্মিত, আনন্দিত ও শিহরিত করে।এটা বিশেষভাবে লক্ষণীয় ফ্লোরেন্টিনাে আরিজা ও ফারমিনা ডাজার ক্ষেত্রে। ফ্লোরেন্টিনাে যখন ফারমিনার অপ্রতিরােধ্য প্রেমে পড়ে তখন উভয়েই ছিল অল্পবয়েসী তরুণ-তরুণী। ফারমিনা ডাজার বিয়ে হয়ে যায় শহরের সবচাইতে কাম্য অভিজাত বংশের বিত্তশালী উচ্চশিক্ষিত সুদর্শন যুবক ডাক্তার জুভেনাল উরবিনোর সঙ্গে। পঞ্চাশ বছরের সুখী দাম্পত্য জীবনের শেষে ডাক্তার যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন ফারমিনার পূর্ব ও প্রথম প্রেমিক ফ্লোরেন্টিনাে, যে কখনােই ফারমিনাকে ভুলতে পারেনি, আবার তার ভালােবাসা নিয়ে উপস্থিত হয় এবং বার্ধক্যের দ্বারপ্রান্তে পৌছে তাদের চমকপ্রদ মিলন ঘটে নদীবক্ষে চলাচলরত এক নৌযানে।। এ উপন্যাসে মার্কেজ অনেকগুলি অবিস্মরণীয় চরিত্র ও ঘটনা উপহার দিয়েছেন। তাছাড়া লেখকের কৌতুকরসবােধ, ভাষার কারুকাজ ও কাহিনীর পরতে পরতে যৌনতার অনুষঙ্গের কুশলী ব্যবহার গ্রন্থটিকে অতুলনীয় বৈশিষ্ট্য দান করেছে।

লেখক পরিচিতি

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ

1927 – 1982

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস (জন্ম ৬ মার্চ, ১৯২৭, আরাকাটাকা, কলম্বিয়া—মৃত্যু ১৭ এপ্রিল, ২০১৪, মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো) ছিলেন একজন কলম্বিয়ান ঔপন্যাসিক এবং বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক। ১৯৮২ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন, মূলত তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা " Cien años de soledad" (১৯৬৭; " একশ বছর নির্জনতা ") এর জন্য। এই বিশ্ব বিখ্যাত কলম্বীয়, স্প্যানিয় ভাষী ঔপন্যাসিক বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধের সবচেয়ে আলোচিত, সবচেয়ে প্রভাবশালী লেখক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। জীবনের শেষ দুই যুগ তিনি ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচেছিলেন। এ সময় তার লেখালেখি কমে আসে; জনসংযোগ ও ভ্রমণ হয়ে পড়ে সীমিত। এমনকী ২০০২-এ আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ড লিভিং টু টেল আ টেইল প্রকাশের পর পরিকল্পিত ২য় এবং ৩য় খণ্ড আর রচনা করা হয়ে ওঠেনি। তিনি দুরারোগ্য লিম্ফেটিক ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ২০১২'র জুলাই থেকে তিনি স্মৃতি বিনষ্টিতে আক্রান্ত হন। মৃত্যুকালে তিনি একটি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি রেখে গিয়েছেন। সাহিত্যবিশারদদের মতে তিনি হোর্হে লুইস বোর্হেস এবং হুলিও কোর্তাসারের মতোই বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দক্ষিণ আমেরিকান কথাসাহিত্যিক। একই সঙ্গে জনপ্রিয় এবং মহৎ লেখক হিসেবে চার্লস ডিকেন্স, লিও তলস্তয় ও আর্নেস্ট হেমিংওয়ের সঙ্গে তার নাম একসঙ্গে কাতারে উচ্চারিত হয়। ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার প্রদানের সময় সুইডিশ একাডেমি এমত মন্তব্য করেছিল যে তার প্রতিটি নতুন গ্রন্থের প্রকাশনা বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মতো। জনমানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে তিনি ছিলেন বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল প্রবাদপ্রতীম।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →