বইয়ের পরিচয়

বাঘিনী(কিছু অংশ)॥ এক ॥দু'বছর আগে বাঁকা বাগদি যেদিন মারা গিয়েছিল, সেদিন এ সংসারের অমো নিয়মের কোথাও কোনো ত্রুটি ঘটে নি ।মানুষ ধরিত্রীর সন্তান । পাপী-তাপী পুণ্যবান, সব মানুষই নাকি । একটি কে মানুষের মৃত্যু পৃথিবীর অদৃশ্য গায়ে একটি ক'রে বয়সের রেখা। একটি হৃৎপি‍ে ক্রিয়া বন্ধ, জঙ্গম পৃথিবীর এক মুহূর্তের স্তব্ধতা, এসব কথা শোক-গাধায় মানায় / বাকা বাগদির জন্য শোক, নীতিবিরুদ্ধ ও অসম্মান কর। স্বয়ং ধরিত্রীরও। কারণ বাকা বাগ্ দি ছিল ঘোর পাপী ৷মানুষের দূরের কতাই সেদিন পাখি ডেকেছিল। বাতাস বয়েছিল। আকাশের নীলি ছিটেফোটা স্পষ্ট মেঘের ছায়াও পড়েনি। জীবজগৎ কিংবা জড়জগতের কোথ কোনো ত্রুটি ঘটেনি নিত্য অনুষ্ঠানের।কেঁদেছিল একজন । বাঁকা বাগ্ দির মেয়ে দুর্গা । যার একটি পোশাকি না আছে, পারুলবালা । বিহানবেলা ঘুম ভেঙে যাদের লজ্জা নিবারণ রোজের চি তোলা-কাপড়ের হিসেব তারা পাগল না হলে করে না। বাঁকা বাগদির ঘরে মে তোলা-নামও সেই রকম হিসেবের পাগলামি ব'লেই মনে হয় ! বাপ ডাকতো চু ব’লে। লোকে ‘বাকার মেয়ে'। আর যে-সব নাম ছিল, বিশেষণ ৷

লেখক পরিচিতি

সমরেশ বসু

1924 – 1988

সমরেশ বসু (১১ ডিসেম্বর ১৯২৪ – ১২ মার্চ ১৯৮৮) ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি লেখক। তার জন্মনাম সুরথনাথ বসু; কিন্তু সমরেশ বসু নামেই লেখক পরিচিতি সমধিক। তিনি কালকূট ও ভ্রমর ছদ্মনামে উল্লেখযোগ্য সাহিত্য রচনা করেছেন। তার রচনায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, শ্রমজীবী মানুষের জীবন এবং যৌনতাসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সুনিপুণ বর্ণনা ফুটে উঠেছে। তিনি ১৯৮০ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →