বালিকার চন্দ্রযান
পৃষ্ঠা: 480
ISBN: 9789849162285
বইয়ের পরিচয়
শনি আর রোববার ছুটির দিন হলেও মিস্টার আলির ছুটি নেই। তাঁকে কাজ করতে হয়। শনিবার দিন তো শাপলা ট্র্যাভেলস এজেন্সি তাঁকে খোলা রাখতেই হয়, রোববারে বেরুতে হয় লন্ডনের বাইরে খদ্দের পটাতে, নতুন খদ্দেরের জন্যে জাল ফেলতে। ম্যানচেস্টারে, বার্মিংহামে, কার্ডিফে। এসব জায়গায় বাঙালি আছে, ভারতীয় আছে, আছে পাকিস্তানি। তবে মিস্টার আলি পাকিস্তানি পাড়ায় আর পা বাড়ান না; অথচ একাত্তর সালের জুন মাস পর্যন্ত লন্ডনে তিনি পি.আই.এ-তে চাকরি করাকালে বিস্তর পাকিস্তানির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন।বিলেতে এখন পাকিস্তানিরা বাঙালিকে ব্যবসা দেয় না। অথচ মিস্টার আলি ক্রোধ অনুভব না করে পারেন না, বাঙালিরা দিব্যি ব্যবসা দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানিদের। তাঁর এই ক্রোধ দেশাত্মবোধক হবে বলে মনে হতে পারে বাইরে থেকে। অনেক বাঙালি খদ্দের তাঁর কাছে কিন্তু আসে তিনি বাঙালি বলে। তারা বলে, এক পাকিস্তানির কাছে কিছু সামান্য দর পেয়েছিলাম, কিন্তু আপনার কাছেই এলাম, পয়সা যদি দিতে হয় তো বাঙালিকেই দেব। অথচ তারা জানে না, মিস্টার আলিকে খদ্দেরের মাল প্যাকিংয়ের জন্যে অন্তত পাকিস্তানি মিস্টার খানের কাছে যেতে হয়।