বইয়ের পরিচয়

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রপিতামহ রামচন্দ্র উড়িয়া ব্রাহ্মণ বা 'উড়ে কুলিন' নামে পরিচিত ছিলেন। প্রাচীন কৌলীন্য প্রথার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে তিনি একাধিক বিবাহ করে উড়ে উড়ে বেড়ানোর কারণেই লোকে পরিহাস করে উক্ত নাম প্রদান করেছিল। পরবর্তীকালে বীরভূমের লাভপুরের আদি ব্রাহ্মণ বংশের সন্তান উমারাণীকে বিয়ে করে সেখানেই থিতু হন রামচন্দ্র। তাদের তিন সন্তান : তারাসুন্দরী, রামদয়াল ও দীনদয়াল। রামদয়াল ও দীনদয়াল উভয়েই আইন পেশায় নিযুক্ত হন; কিন্তু তারা ছিলেন বিপরীত স্বভাবের। দীনদয়াল যেমনি ছিলেন মহৎ হৃদয়ের স্বজনবাৎসল মানুষ, তেমনি রামদয়াল ছিলেন অমিতচারী, বিলাসী ও মোহগ্রস্ত ভোগীপুরুষ। দীনদয়ালের বিবাহ একাধিক; সন্তানসংখ্যা ছয়। এই ছয় সন্তানের একজন হরিদাস।

লেখক পরিচিতি

তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়

1898 – 1971

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (২৩ জুলাই ১৮৯৮ – ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭১) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর এক বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তিনি ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি ছোটোগল্প-সংকলন, ১২টি নাটক, ৪টি প্রবন্ধ-সংকলন, ৪টি স্মৃতিকথা, ২টি ভ্রমণকাহিনি, একটি কাব্যগ্রন্থ এবং একটি প্রহসন রচনা করেন। আরোগ্য নিকেতন উপন্যাসের জন্য তারাশঙ্কর ১৯৫৫ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার ও ১৯৫৬ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার এবং ১৯৬৭ সালে গণদেবতা উপন্যাসের জন্য জ্ঞানপীঠ পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া ১৯৬২ সালে তিনি পদ্মশ্রী এবং ১৯৬৮ সালে পদ্মভূষণ সম্মান অর্জন করেন। ১৯৭১ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। তারাশঙ্করের উপন্যাস ও ছোটোগল্প অবলম্বনে বাংলা ভাষায় একাধিক জনপ্রিয় ও সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত জলসাঘর ও অভিযান, অজয় কর পরিচালিত সপ্তপদী, তরুণ মজুমদার পরিচালিত গণদেবতা, তপন সিংহ পরিচালিত হাঁসুলী বাঁকের উপকথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →