বইয়ের পরিচয়

ওই সময়েই কী একটা হাঙ্গামায় মা গেল । রইল শুধু দিদিমা আর সে । দিদিমা বুড়ি মানুষ। কতদিন আর বাঁচবে! তবু যে-ক'দিন বেঁচে ছিল, ততদিন নাতির জন্যে অনেক করে গেছে। নাজিরদের চণ্ডীমণ্ডপে বরদা পণ্ডিতের পাঠশালা ছিল একদিকে, আর একদিকে ছিল সারদা পণ্ডিতেরা মক্তব। সারদা পণ্ডিত নিজে পড়াতেন না ছাত্রদের, মৌলবি রেখেছিলেন। মৌলবি ফারসি পড়াত পড়ুয়াদের। নাজিরবাবু বলেছিলেন—কনেবউ, তুমি আবার নাতিকে ফারসি পড়াতে গেলে কেন বলো তো? সংস্কৃত পড়লে কি বিদ্যে হয় না? দিদিমা বলেছিল—না কর্তাবাবু, তা নয়, নাতি চিরকাল চাষাভুষো হয়ে থাকবে, তা কি ভাল?

লেখক পরিচিতি

বিমল মিত্র

1912 – 1991

বিমল মিত্র (১৮ মার্চ ১৯১২ - ২ ডিসেম্বর ১৯৯১) একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক। তিনি বাংলা ও হিন্দি উভয় ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছেন। কর্মজীবনে তিনি রেলে চাকুরি করতেন। তার প্রথম উপন্যাস 'ছাই'। 'সাহেব বিবি গোলাম' উপন্যাস তার অন্যতম গ্রন্থ। এরপর রেলের চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি সাহিত্যসৃষ্টিতে আত্মনিয়োগ করেন। তার অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে 'কড়ি দিয়ে কিনলাম', 'একক দশক শতক', 'চলো কলকাতা' 'পতি পরম গুরু' ইত্যাদি। প্রায় পাঁচশোটি গল্প ও শতাধিক উপন্যাসের লেখক বিমল মিত্র তার 'কড়ি দিয়ে কিনলাম' গ্রন্থের জন্য ১৯৬৪ সালে রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত হন্য। এছাড়াও বহু পুরস্কার ও সম্মান লাভ করেন। তার রচনা ভারতের বিভিন্ন চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে। শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার হিসাবে তিনি ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →