বইয়ের পরিচয়
পোড়া বাড়ির রহস্য(কিছু অংশ)কলকা লকাতা থেকে খুব একটা দূর নয়। না-শহর, না-গ্রাম মজিলপুর। থানা আছে, আদালত আছে, পোস্ট অফিস আছে, স্কুল কলেজ তো আছেই। সেই মজিলপুরের দক্ষিণাংশে একটা বর্ধিষ্ণু পাড়া — বোসপুকুর। সেই পাড়ার বাসিন্দা আমার গল্পের তিন সত্যসন্ধানী। তাদের বয়েস তেরো চোদ্দ। একজন ছেলের নাম শান্তনু মাইতি, ডাকনাম শান্ত। দ্বিতীয় জন জীমূতবাহন চট্টোপাধ্যায়— বন্ধুরা আদর করে নাম দিয়েছে মোটু। কারণ ওর দেহটা সত্যিই নামের উপযোগী। শান্তর বয়সী ছেলেদের তুলনায় সে অনেক মোটা। অল্পদূর দৌড়োলেই হাঁপায়। ইদানীং বোসপুকুর ব্যায়ামাগারে ব্যায়াম, আসন এসব করছে যদি রোগা হওয়া যায়। তৃতীয় জন— - শেলী মিত্র। মেয়েটি শান্তদের বাড়ির কাছেই থাকে। খুব বুদ্ধিমতী। এই তিনজনকে নিয়ে ‘ত্রয়ী সত্যসন্ধানী’। সংক্ষেপে ‘ত্রয়ী’।তিনজনেই বদলাবদলি করে অনেক ডিটেকটিভ বই পড়েছে। তারপর অনেক চিন্তাভাবনা করে এই ‘ত্রয়ী’ নামে একটি সত্যসন্ধানী সংস্থা গড়ে তুলেছে। মোটুর বাবা নকুলবাবু ওকালতি করেন। বাইরের ঘরে তাঁর মক্কেলরা আসে। সেই ঘরেই তাঁর ওকালতির কাজকর্ম। ওটার পাশেই একটা ঘর। সেই ঘরে দুটো আলমারি বোঝাই মামলার নথিপত্র। আইনের বইয়ে ঠাসা। দুটো আলমারিই ধূলিমলিন। কাচভাঙা। ঘরে একটা আধভাঙা টেবিল, বাতিল চেয়ার দুটো আর একটা প্রায় ভাঙা ইজিচেয়ার। এই ঘরই হলো ‘ত্রয়ী’র কার্যালয়। শান্তর খুব ইচ্ছে ঘরটার বাইরে একটা সাইনবোর্ড লাগায়। সাইনবোর্ডে লেখা থাকবে ‘ত্রয়ী সত্যসন্ধানী কার্যালয়'। কিন্তু উৎসাহ পায় না। কারণ মজিলপুরে এখনো একটা সাংঘাতিক চুরি কি ডাকাতি এসব হয়নি। অথচ শান্তর খুব ইচ্ছে সেইরকম একটা কিছু ঘটুক, তাহলেই ‘ত্রয়ী’ সত্যসন্ধানে নামতে পারবে এবং তার সমাধানও করতে পারবে।