বইয়ের পরিচয়

ভূত আছে কি নেই, তা জানি না। তবে মনে হয় ভূত না থাকলেও ভূত আছে। আছে আমাদের কল্পনায়। ভূত আমাদের কল্পনার ফসল। তাই ভূত নিয়ে এত কথা, এত গল্প। গল্পের শেষ নেই। বহুকাল ধরে তাই লেখা হচ্ছে ভূতের গল্প। আজও লেখা হচ্ছে। সে সব গল্প কখনও ভয়ের, কখনও কৌতুকের। সে সব গল্প পড়লে কখনও আমাদের গা ছমছম করে, কখনও হাসিতে গড়িয়ে পড়ি। রবীন্দ্রনাথের ভূতের গল্প আমাদের মধ্যে শিহরন জাগায়। আবার ত্রৈলোক্যনাথের ভূতের গল্প অসামান্য কৌতুক রসে ভরপুর। ভূতের গল্পের ভূতেরা সবসময় ক্ষতিকর নয়। এটা ঠিক যে তারা মাঝে মাঝে মানুষের ঘাড় মটকায়, তাদের মেরে ফেলে, তাদের ভয় দেখিয়ে ঘরছাড়া করে। আবার এটাও ঠিক যে তারা মাঝে মাঝে মানুষের উপকার করে। তারা মাঝে মাঝে বলে দেয় এটা করো, ওটা কোরো না। মাঝে মাঝে তারা ভবিষ্যদ্বাণীও করে। মানুষের কল্পনা থেকেই যেহেতু ভূতেদের জন্ম হয়েছে, তাই তাদের স্বভাবটাও অনেকটা মানুষের মতো। তাদের মধ্যেও আছে ঈর্ষা, কলহপ্রিয়তা, আছে নানা দ্বন্দু। তবে তারা যতই ঝগড়াঝাঁটি করুক, তারা কেউ কাউকে খুন করে না। খুন করার ক্ষমতা তাদের নেই, তারা যে অশরীরী। তাদের শরীর নেই, কিন্তু মন আছে। এই কারণেই তারা এত আকর্ষণীয়। তাদের নিয়ে এত কৌতূহল।বাংলা ভাষায় ভূত নিয়ে অনেকেই গল্প লিখেছেন। সেই সব গল্প নিয়ে আমাদের এই সংকলন প্রকাশিত হল।পাঠকদের এই সংকলন ভালো লাগলে আমরা খুশি হব।

লেখক পরিচিতি

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

1935 – বর্তমান

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (জন্ম: ২ নভেম্বর ১৯৩৫) একজন বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক, যিনি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য গল্প ও উপ্যনাস লিখে থাকেন। ১৯৮৮ সালে তার মানবজমিন উপ্যনাসের জন্য সাহিত্য একডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। ছোটদের জন্য লেখা উপ্যনাসের মধ্যে মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি, গোসাঁই-বাগানের ভূত জনপ্রিয়।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →