বইয়ের পরিচয়

জ'হুরির দোকান।...বড়-রাস্তার ওপরেই। চার-রাস্তার মোড়ে। নাম, জহর-মহল। বড়-বড় কাচের শো- কেসে সাজানো বিস্তর মণিমাণিক্য, সোনারুপো। দিনের আলোয় জড়োয়া সেটের এক রূপ, সন্ধ্যার পর বৈদ্যুতিক আলোয় আর-এক। জৌলুস চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। অনভ্যস্ত চোখকে বিহ্বল করে তোলে।পথচারীরা থমকে দাঁড়ায় জহুরির জহর দেখে। বন্দুকধারী সান্ত্রিদের নজর সবার উপরেই। সন্ধ্যার পর পাহারা দ্বিগুণ হয়। আর চব্বিশ ঘণ্টা একটা খয়েরি রঙের জিপ দাঁড়িয়ে থাকে দোকানের পাশের গলিতে। পর-পর কয়েকটি রাহাজানি হয়ে যাবার পর জহুরির টনক নড়েছে। তাই জিপের ব্যবস্থা। সশস্ত্র পাহারাদার অষ্টপ্রহর মোতায়েন থাকে সেখানে।ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না। সদর স্ট্রিট বা পার্ক স্ট্রিটের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, যাতে দিনের আলোয় সবার চোখের ওপরেই দোকান লুট না হয়ে যায়-তাই হুঁশিয়ার জহুরি সব রকম পাহারার ব্যবস্থাই করেছিলেন।

লেখক পরিচিতি

অদ্রীশ বর্ধন

1932 – 2019

অদ্রীশ বর্ধন (১ ডিসেম্বর, ১৯৩২ - ২০ মে, ২০১৯) প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক ও অনুবাদক। জন্ম কলকাতায় এক শিক্ষক-পরিবারে। অ্যাডভেঞ্চারের টানে জীবনে অনেক পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন। চাকরি, ব্যবসা ও সাহিত্যসাধনা। পরে নামী একটি প্রতিষ্ঠানের পারচেজ ম্যানেজার-পদে ইস্তাফা দিয়ে পুরোপুরি চলে আসেন লেখার জগতে। গোয়েন্দা কাহিনী দিয়ে লেখালেখির শুরু করেন। তার সৃষ্ট গোয়েন্দা ইন্দ্রনাথ রুদ্র ও মেয়ে গোয়েন্দা নারায়ণী। বাংলায় বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান, অতীন্দ্ৰিয় জগৎ অতিপ্রাকৃত, অনুবাদ ইত্যাদি লেখার ক্ষেত্রে অদ্রীশ বর্ধন অন্যতম স্বীকৃত নাম। ভারতের প্রথম কল্পবিজ্ঞান-পত্রিকা “আশ্চর্যর ছদ্মনামী সম্পাদক। সম্পাদনা করেছেন “ফ্যানটাসটিক”। সত্যজিৎ রায়ের সভাপতিত্বে প্রথম “সায়ান্স ফিকশন সিনে ক্লাব”-এর প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক তিনি। পত্রিকা, রেডিও, ফিল্ম ক্লাবের মাধ্যমে কল্পবিজ্ঞানকে আন্দোলন-আকারে সংগঠিত করেন। একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন সাহিত্যে অবদানের জন্য। কিশোর জ্ঞানবিজ্ঞান ও পরপর দুবছর "দক্ষিণীবার্তার শ্রেষ্ঠগল্প পুরস্কার”। অনুবাদের ক্ষেত্রে ‘সুধীন্দ্রনাথ রাহা’-পুরস্কার।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →