বইয়ের পরিচয়

বাবা মারা যাবার পর রুহান খুব দ্রুত শিশু-সুলভতা কাটিয়ে যেন এক পরিণত কিশোরে পরিণত হলো। কিন্তু প্রাণবন্ত আর উচ্ছল শিশু রুহানের অবয়বে যা পূর্ণতা এনে দিল তা হলো মায়াবী বিনয়। জন্মের পর কোনোদিন নিজের মা সুলতানা রেহানাকে কাঁদতে না দেখা রুহান বাবাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করে বাসায় ফেরার পর মায়ের শরীরের বাঁকে বাঁকে উপচে ওঠা যে কান্না আর অসহায়ত্ব সেদিন দেখেছিল তাই-ই ওকে হঠাৎ বড়ো করে দিয়েছিল। এই বড়ো হওয়ার পথে রুহান আরো বিনয়ী আর পরিণত হয়ে উঠল যখন তাকে বাজারের ব্যাগ হাতে বাজার করতে গিয়ে বাইরের জগৎ চিনতে হলো।মাছ কিনতে গিয়ে বড়ো বড়ো মানুষগুলোর কনুইয়ের ধাক্কা খেয়ে সবার পেছনে পড়ে থেকে থেকে অবশেষে যখন কিনতে হলো প্রায় পরিত্যক্ত মাছ। অথচ সে-ই মাছ অথবা বাজারের সওদা আনার পর মায়ের আকুল মমতা ছোট্ট রুহানের মাথার চুলে-চোখে, কপালে আদর হয়ে যখন আশ্রয় খুঁজল, অনেক বিদ্যার্জনের আগেই তখন অজান্তে জীবনের গভীরতর এক শিক্ষা রুহানের ভেতরে স্পষ্ট হলো।

লেখক পরিচিতি

শামসুর রাহমান

1929 – 2006

শামসুর রাহমান (২৩ অক্টোবর ১৯২৯ - ১৭ আগস্ট ২০০৬) বাংলাদেশ ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। জীবদ্দশাতেই তিনি বাংলাদেশের প্রধান কবি হিসেবে মর্যাদালাভ করেছিলেন। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগ, তথা পঞ্চাশের দশকে তিনি আধুনিক কবি হিসেবে বাংলা কবিতায় আবির্ভূত হন এবং অল্প সময়ের ভেতরেই দুই বাংলায় (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম বাংলায়) কবি হিসেবে পরিচিতি পান। আধুনিক কবিতার অনন্য পৃষ্ঠপোষক বুদ্ধদেব বসুর 'কবিতা' পত্রিকায় 'রূপালি স্নান' কবিতাটি প্রকাশিত হলে কবি হিসেবে শামসুর রাহমান সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরবর্তীতে উভয় বাংলাতেই তার শ্রেষ্ঠত্ব এবং জনপ্রিয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি নাগরিক কবি, তবে নিসর্গ তার কবিতায় খুব কম ছিল না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর লিখিত তার দুটি কবিতা খুবই জনপ্রিয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে কলকাতার বিখ্যাত দেশ ও অন্যান্য পত্রিকায় কবিতা লিখতেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →