বইয়ের পরিচয়

"রজনী" বইটির ভুমিকা থেকে নেয়াঃপ্রকৃতপক্ষে রজনী উপন্যাসে প্রেম কী, রূপ কী, সৌন্দর্য কী, দুঃখ কী, শারীরিক প্রেম কী, ঈশ্বর কী ইত্যাদি নানা বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে। আবার এ-সব প্রসঙ্গের কীভাবে মীমাংসা করা যেতে পারে, তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন বঙ্কিমচন্দ্র। গঠনশৈলী, চরিত্রায়ন ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস-সমগ্রের মধ্যে রজনীর স্থান তাই বিশিষ্ট। বঙ্কিমমানস উপলব্ধির জন্যেও উপন্যাসটি সহায়ক হতে পারে নিঃসন্দেহে। এ ছাড়া উত্তরকালের ঔপন্যাসিকগণও এই উপন্যাসের কাছে ঋণী।জাগতিক জীবনের সঙ্গে প্রণয়ের যে দ্বন্দ্ব শরৎসাহিত্যের প্রধান প্রসঙ্গ, তাঁরও সূত্রপাত রজনী উপন্যাসে। অন্তর্গত প্রেম জেগে উঠলে তা যে কত বিচিত্রপথগামী হতে পারে, শরৎসাহিত্যে তার সমৃদ্ধ পরিচয় মেলে। রজনী উপন্যাসের লবঙ্গলতাই হচ্ছে সেই চরিত্র, যা শরৎচন্দ্রকে হয়তাে এরকমটাই ভাবতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু লবঙ্গলতা যেখানে থামিয়া গিয়াছে রাজলক্ষ্মী, সাবিত্রী, অচলা সেইখানে থামে নাই। শরৎচন্দ্র আত্মজাগ্রত এই নারীকে তাঁর উপন্যাসে স্থান দিলেও সমাজে তাদের ঠাই হয়নি। এখানেই শরৎচন্দ্রের ব্যর্থতা। কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্র এই সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। নীতিবিহর্গিত প্রেমের অপরাজেয় রূপকে তিনি সেকালের সামাজিক প্রেক্ষাপটে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন। রজনী এ-দিক থেকেও বাংলা সাহিত্যের একটি সফল উপন্যাস।

লেখক পরিচিতি

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

1838 – 1894

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২৬ জুন ১৮৩৮ – ৮ এপ্রিল ১৮৯৪) ছিলেন উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি ঔপন্যাসিক। বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের বিকাশে তার অসীম অবদানের জন্যে তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন। তাঁকে প্রথম আধুনিক বাংলা ঔপন্যাসিক হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে গীতার ব্যাখ্যাদাতা হিসেবে, সাহিত্য সমালোচক হিসেবেও তিনি বিশেষ খ্যাতিমান। তিনি জীবিকাসূত্রে ব্রিটিশ রাজের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যপত্র বঙ্গদর্শনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছদ্মনাম হিসেবে কমলাকান্ত নামটি বেছে নিয়েছিলেন। তাঁকে বাংলা উপন‍্যাসের জনক বলা হয়। এছাড়াও তিনি বাংলা সাহিত্যের সাহিত্য সম্রাট হিসেবে পরিচিত। বঙ্কিমচন্দ্র রচিত আনন্দমঠ (১৮৮২) উপন্যাসের কবিতা বন্দে মাতরম ১৯৩৭ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কর্তৃক ভারতের জাতীয় স্তোত্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →