বইয়ের পরিচয়

"রাখালী"বইটির প্রথমের কিছু অংশ:রাখালীএই গায়েতে একটি মেয়ে চুলগুলি তার কালাে কালাে,মাঝে সােনার মুখটি হাসে আঁধারেতে চাদের আলাে।রাতে বসতে, জল আনতে, সকল কাজেই হাসি যে তার,এই নিয়ে সে অনেক বারই মায়ের কাছে খেয়েছে মার।সান করিয়া ভিজে চুলে কাঁখে ভরা ঘড়ার ভারেমুখের হাসি দ্বিগুণ হােটে কোন মতেই থামতে নারে।এই মেয়েটি এমনি ছিল যাহার সাথেই হত দেখা,তাহার মুখেই এক নিমেষে ছড়িয়ে যেত হাসির রেখা।মা বলিত, “বডুরে তুই, মিছে মিছি হাসিস্ বড় ...এ শুনেও সারা গা তার হাসির চোটে নড় নড়।মুখখানি তার কাঁচা কাঁচা, না সে সােনার না সে আবীর, সে করুণ সঁঝের গাঙে আধ-আলাে রঙীন রবির।কেমন যেন গাল দুখানি, মাঝে রাঙা ঠোটটি তাহার,মাঠে-ফোটা কলমি ফুলে কতকটা তার খেলে বাহার।গালটি তাহার এমন পাতল, ফুয়েই যেন যাবে উড়ে,দুএকটি চুল এলিয়ে পড়ে মাথার সাথে রাখছে ধরে।সঁঝ সকালে এ-ঘর ওঘর ফিরত যখন হেসে-খেলে,মনে হত ঢেউয়ের জলে ফুলটিরে কে গেছে ফেলে!এই গাঁয়ের এক চাষার ছেলে ও-পথ দিয়ে চলতে ধীরে,ওই মেয়েটির রূপের গাঙে হারিয়ে গেল কলসটিরে।

লেখক পরিচিতি

জসীম উদ্দীন

1903 – 1976

জসীম উদ্‌দীন (অন্যভাবে জসীমউদ্দীন; ১ জানুয়ারি ১৯০৩ – ১৪ মার্চ ১৯৭৬) একজন বাঙালি কবি, গীতিকার, ঔপন্যাসিক ও লেখক। 'পল্লীকবি' উপাধিতে ভূষিত, জসীম উদ্‌দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি। ঐতিহ্যবাহী বাংলা কবিতার মূল ধারাটিকে নগর সভায় নিয়ে আসার কৃতিত্ব জসীম উদ্‌দীনের। তার নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতিময় কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম। তার কবিতা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তার লেখা অসংখ্য পল্লিগীতি এখনো গ্রাম বাংলার মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। যথা:- আমার হার কালা করলাম রে, আমায় ভাসাইলি রে, বন্ধু কাজল ভ্রমরা রে ইত্যাদি। তার কর্মজীবন শুরু হয় পল্লী সংগীতের সংগ্রাহক হিসেবে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষিত জসীম উদ্‌দীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ বছর শিক্ষকতা করেন; ১৯৪৪ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকার এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রচার বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৬২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। জসীম উদ্‌দীন ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার একজন দৃঢ় সমর্থক। তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। জসীম উদ্‌দীন প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →