বইয়ের পরিচয়

উইকিপিডিয়া থেকে

রিভার গড দক্ষিণ আফ্রিকান লেখক উইলবার স্মিথ রচিত উপন্যাস। এতে নপুংসক দাস টাইটার বর্ণনায় প্রাচীন মিসরীয় জীবন, হিক্সসের আক্রমণে মিশরীয় ফারাও সম্রাজ্যের পতন অতঃপর পলায়ন ও ফিরে এসে ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। উপন্যাসটি উইলবার স্মিথ–এর প্রাচীন মিশর সিরিজের অন্তর্ভুক্ত। অন্য বই গুলোর মধ্যে রয়েছে দ্য সেভেন্থ স্ক্রল (১৯৯৫), ওয়ারলক, দ্য কোয়েস্ট, ডেজাড গড, ফারাও। উপন্যাসটি ১৯৯৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। == কাহিনী সংক্ষেপ == রিভার গড উপন্যাসে দাস টাইটার দৃষ্টিতে দেখা মিসরীয় ফারাওয়ের রাজত্ব ও তার পরিণতির গল্প, যে নিজে একজন নপুংসক ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। টাইটা ছিল প্রভু ইনটেফে দাস যে তার মেয়ে লস্ট্রিসের দেখাশোনা করত। আদতে প্রভু ইনটেফের প্রাসাদের সকল কর্মকাণ্ডই টাইটা দেখাশোনা করত। সেই সময় মিশরের ফারাওয়ের কোন ছেলে উত্তরাধিকারী ছিল না। ওরিসিস উৎসবের নাটকে মহান ফারাও লস্ট্রিসকে দেখে মোহিত হন। লস্ট্রিস ঐ সময় বীর সৈনিক ট্যানাসের প্রেমে পড়ে। ঘটনা চক্রে ফারাওয়ের সাথে লস্ট্রিসের বিয়ে হয়ে যায় এবং লর্ড ইনটেফ টাইটাকে যৌতুক হিসেবে দিতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে সৈনিক ট্যানাস মহান ফারাওকে মিসরের প্রধান সমস্যা শ্রাইক্ দস্যুদের সম্পর্কে অবহিত করেন ও প্রতিকার প্রার্থনা করেন যা ফারাও কে ক্ষুব্ধ করে। তিনি ট্যানাসকে দুই বছরের মধ্যে শ্রাইক্ দস্যুদের নির্মূল করার আদেশ দেন অন্যথায় তার মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। ট্যানাস, টাইটার সাহায্যে শ্রাইক্ দস্যুদের নির্মূল করতে সক্ষম হন এবং তাদের সর্দার যে লর্ড ইনটেফ তা প্রমাণ করেন।

উইকিপিডিয়ায় সম্পূর্ণ পড়ুন ↗

রকমারি থেকে

‘রিভার গড’ বইয়ের ভূমিকাঃ উইলবার স্মিথের অত্যাধিক আলােচিত উপন্যাস, রিভার গড বা নদী-ঈশ্বর-এর কাহিনীর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক আছে, আছে তুমুল জল্পনা-কল্পনা। বইয়ের সমাপ্তিতে লেখকের বক্তব্য এই বিতর্কের মূল কারণ, বইটির অসাধারণ জনপ্রিয়তার পর তিনি লিখেছেন এর সিকুয়েল। চার হাজার বছর আগের মিশরীয় ক্রীতদাসের মূল কাহিনী থেকে লেখক কতটুকু কাব্যিক স্বাধীনতা নিয়েছেন, সে বিতর্কে আমরা যাবাে না। অনুবাদ প্রসঙ্গে বলতে পারি, প্রাচীন পটভূমির ভাব-গাম্ভির্য্য এবং সম্রাট-সাম্রাজ্যের বর্ণনা ফুটিয়ে তােলার জন্যে আলঙ্কারিক ভাবটুকু আনা হয়েছে অনুবাদে। বহুদিন ধরেই উইলবার স্মিথের এই উপন্যাসটি অনুবাদের ইচ্ছে ছিলাে, অবশেষে প্রকাশক রিয়াজ খানের নিরবচ্ছিন্ন উৎসাহ এবং সমর্থনে শেষ হলাে পরিশ্রম-সাধ্য এই কাজ। আমার জানা মতে, বাঙলা ভাষায় এটিই উইলবার স্মিথের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ। চারহাজার বছর আগের পটভূমিতে রচিত হওয়ায় ভাষার আভিজাত্য উপন্যাসটির একটি বড় দিক। প্রচন্ড ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে অনুবাদ-কর্ম চালাতে হয়েছে; কিন্তু যে কোনাে ভুল-ভ্রান্তির সবটুকু দায় আমারই। ইংরেজী শব্দ যথাসম্ভব পরিহার করে চেষ্টা করেছি বাংলা শব্দ ব্যবহারের। ভিন্ন কোনাে অনুবাদ-উপন্যাসে হয়তাে এর তেমন প্রয়ােজন নেই- মূল ইংরেজী শব্দ বরঞ্চ অনেকক্ষেত্রে মানানসই হয় সেখানে। কিন্তু রিভার গডে’র বাঙলা রুপান্তরে প্রাচীন ভাব ফুটিয়ে তােলা নিতান্তই প্রয়ােজনীয় ছিলাে। বানানরীতি এবং বিশেষ কিছু আধুনিক শব্দ ও পংক্তি’র জন্যে ঋণী হয়ে রইলাম বাংলাদেশের প্রধান প্রথাবিরােধী কবি, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী এবং গবেষক প্রয়াত হুমায়ুন আজাদের নিকট। সবশেষে, উপন্যাসের শেষে লেখকের বক্তব্যে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই ভূমিকার সমাপ্তি টানছি।

লেখক পরিচিতি

উইলবার স্মিথ

উইলবার এডিসন স্মিথ (ইংরেজি ভাষায়: Wilbur Addison Smith) (জন্ম: ৯ই জানুয়ারি, ১৯৩৩ - মৃত্যু: ১৩ নভেম্বর, ২০২১) জনপ্রিয় আফ্রিকান ঔপন্যাসিক। তার জন্ম উত্তর রোডেশিয়ার (বর্তমানে জাম্বিয়া) ব্রোকেন হিলে। দক্ষিণ আফ্রিকায় পড়াশোনা শেষে কিছুকাল সাংবাদিকতা করেন। অ্যাকাউন্টেন্টের চাকরি করার সময়ই প্রথম উপন্যাস লিখেন। বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন। তার উপন্যাসগুলো অধিকাংশ সময়ই তিনটি সিরিজের যেকোন একটির অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। সিরিজগুলো হচ্ছে, কোর্টনি, প্রাচীন মিশর ও ব্যালান্টাইন। ২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী তার প্রকাশিত ৩৫টি উপন্যাসের ১২ কোটি কপি বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি বিক্রি হয়েছে শুধু ইতালিতে। == মৃত্যু == ১৩ই নভেম্বর, ২০২১, উইলবার স্মিথের ওয়েব সাইটের একটি নিউজ লেটারে তার মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এখানে জানানো হয় স্মিথ তার ক্যাপ টাউনের বাড়িতে সে দিন সকালে আকস্মিকভাবে মৃত্যু বরন করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বৎসর। == রচনাবলী == === কোর্টনি সিরিজ === When the Lion Feeds ১৯৬৪ The Sound of Thunder ১৯৬৬ A Sparrow Falls ১৯৭৭ The Burning Shore ১৯৮৫ Power of the Sword ১৯৮৬ Rage ১৯৮৭ A Time to Die ১৯৮৯ Golden Fox ১৯৯০ Birds of Prey ১৯৯৭ Monsoon ১৯৯৯ Blue Horizon ২০০৩ The Triumph Of The Sun ২০০৫ (Courtney and Ballantyne) Assegai ২০০৯ === প্রাচীন মিশর সিরিজ === রিভার গড ১৯৯৩ দ্য সেভেন্থ স্ক্রল ১৯৯৫ ওয়ারলক ২০০১ দ্য কোয়েস্ট ২০০৭ ডেজার্ড গড ২০১৪ ফারাও ২০১৬ প্রাচীন মিশর সিরিজের সমস্ত বইয়ের বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →