লেখক পরিচিতি
শহীদ আখন্দ
1935 – বর্তমান
শহীদ আখন্দ ছিলেন একজন বাংলাদেশি লেখক ও বাংলা ভাষার অন্যতম ঔপন্যাসিক। শহীদ আখন্দ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দৃষ্টিশক্তি ও চলৎশক্তিহীন চরম অসহায় অবস্থায় তিন কন্যা এক পুত্র নিয়ে ঢাকার শ্যামলী রিং রোডে (আদাবর) বাস করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিখতে পারছিলেন না। নিজের বাড়িতে দিনরাত শুয়ে বসে কেটেছে। ওনার দেখভাল করতো কাজের লোকজন। তাদের ও ছিল সীমাহীন অবহেলা। এখানে এক অর্থে তিনি একা ও নিঃসঙ্গ। সারাজীবন অসংখ্য মানুষের মধ্যে থেকেছেন, লেখক-পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে থেকেছেন তিনি। এখানে বিশেষ কেউ দেখতেও আসেনি তাঁকে, খোঁজ নেয়নি। অসামান্য মেধার এই অসাধারণ মানুষটি অনেক গুলো বছর হতভাগ্যের জীবন কাটিয়ে গেলেন। মধ্যবিত্ত জীবন ও সমাজের দক্ষ রূপকার, গভীর জীবনবোধে ঋদ্ধ বহুমাত্রিক লেখক শহীদ আখন্দ একজন বরেণ্য গল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং অনুবাদক। তাঁর লেখায় আবহমান বাংলার সাধারণ মানুষের সংগ্রামী জীবনের একটি সূক্ষ্ম চিত্র ফুটে উঠেছে। তাঁর লেখার বিষয়ও বিচিত্র। একুশে ফেব্রুয়ারি ও ভাষা আন্দোলন নিয়ে রয়েছে তাঁর অসামান্য ক'টি গল্প। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রচনা, প্রবন্ধ, ইতিহাস, কিশোর উপন্যাস, ক্লাসিক অনুবাদগ্রন্থ ইত্যাদি। শহীদ আখন্দ লেখালেখি শুরু করেন বাংলা বিভাগের দুই দশক পর থেকে অর্থাৎ ষাটের দশকে। ১৯৬৪ সালে প্রকাশ পায় তার প্রথম উপন্যাস ‘পান্না হলো সবুজ’। এরপর ১৯৭০ সালে প্রকাশ পায় তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘পাখির গান বনের ছায়া’। এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিলো মধ্যবিত্ত জীবনের উপাখ্যান। শহীদ আখন্দের প্রকাশিত গল্প-উপন্যাস-অনুবাদ গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধ শতাধিক তাঁর প্রকাশিত উপন্যাসের কয়েকটি: পান্না হলো সবুজ (১৯৬৪) পাখির গান বনের ছায়া (১৯৭০), দুদণ্ড শান্তি (১৯৭১), একদা এক বসন্তে (১৯৮৪), সেই পাখি (১৯৮৬), আবার আসিব, আপন সৌরভ (১৯৮৬) কখন কে জানে (১৯৯৫), ভেতরের মানুষ প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের কয়েকটি- জনতায় নির্জন, অনিবার্য বান্ধব, যখন পারি না, দূরে, বহুদূরে’, ‘ভালমন্দ ভালবাসা’, ‘একাত্তরের কালবেলায়’, ‘সেই ভালো’, ‘বসতি’, ‘কাকাদীন ও বিজো পাওয়ার’, ‘স্বপ্নের হাসি কান্না’, সরস গল্প, নির্বাচিত গল্প- ইত্যাদি।
উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →