সব কিছু ভেঙে পড়ে (উপন্যাস) বইয়ের প্রচ্ছদ

সব কিছু ভেঙে পড়ে (উপন্যাস)

লেখক: হুমায়ুন আজাদ

পৃষ্ঠা: 69

ISBN: 9789849833529

বইয়ের পরিচয়

উইকিপিডিয়া থেকে

সব কিছু ভেঙে পড়ে হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি উপন্যাস, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ সালে একুশে গ্রন্থমেলায় বাংলাদেশের আগামী প্রকাশনী, ঢাকা থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে আজাদ নারী-পুরুষের মধ্যেকার শারীরিক ও হৃদয়সম্পর্কের নানা আবর্তন এবং পরিণতি কাহিনীকারে প্রকাশ করেছে যা বিভিন্ন প্রশ্নের উদ্রেক হয়ে উঠতে পারে, এবং প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় প্রায়শই পরিলক্ষিত হতে পারে। গাঠনিক এবং বাচনভঙ্গির দিক বিবেচনায় এটি বাংলা সাহিত্যে একটি অধুনিক জীবনবাদী উপন্যাসের বহিঃপ্রকাশ। উপন্যাসটি মাহবুব চরিত্রের জীবনের ঘটনা প্রবাহ অনুসরণ করে, যিনি পেশায় সেতু প্রকৌশলী। কাঠামো নির্মাণ পেশার অভিজ্ঞতার সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের পারস্পরিক মিলবিন্যাস খুঁজে পান মাহবুব, ফলে জাগতিক বস্তুগত, অবস্তুগত এবং মনস্তাত্তিক বিষয়াদী তার কাছে সমার্থক হয়ে উঠতে শুরু করে। তার দৃষ্টিতে নারী-পুরুষের সম্পর্ক একটি কাঠামো, যার কাজ ভার বহন করা এবং একসময় কাঠামোটি ভার বহন করতে না পারার ব্যর্থতায় ভেঙে পরে। আজাদ দেখিয়েছেন সম্পর্কের বাস্তবতা, যেখানে নারী-পুরুষ পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে এবং পরিণতিতে তাদের আকর্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। হুমায়ুন আজাদ উপন্যাসটি উৎসর্গ করেছেন তাদের, যাদের তিনি(আমি) পান(পাই) নি, যারা তাকে(আমাকে) পান(পায়) নি। বইটি লাইব্রেরি অব কংগ্রেস, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার, স্টকহোম গণগ্রন্থাগার সহ বিশ্বের বিভিন্ন গ্রন্থাগারে স্থান পেয়েছে।

উইকিপিডিয়ায় সম্পূর্ণ পড়ুন ↗

রকমারি থেকে

নষ্ট সময়ের অন্তর্দহন,বিচ্যুত,বিধ্বস্ত ও অস্থির এই যুগবৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করে হৃদয়ের সূক্ষ্ম অনুভূতি দিয়ে লিখেছেন নতুন কাব্য গ্রন্থ "সব কিছু ভেঙে পড়ে না"-এর প্রতিটি পাতা। তার কবিতায় দুঃখ আছে কিন্তু দুঃখবাদ নেই,নৈরাশ্য আছে কিন্তু নৈরাশ্যবাদ নেই। সেজন্য বোধ করি হুমায়ূন আজাদের 'সব কিছু ভেঙে পড়ে'- এর বিপরীতে লিখেছেন তার এই কাব্য গ্রন্থ। স্বতঃস্ফূর্ত আশাবাদী এই কবির 'মানুষের অন্তহীন সম্ভাবনায়' রয়েছে অগাধ বিশ্বাস। তার বিশ্বাস, স্পর্শহীন, আন্তরিকতাহীন-আইজেনের পাল্লায় পড়ে পৃথিবীর প্রাতিষ্ঠানিক বিচ্যুতি কিংবা সভ্যতার সংকট ঘটতে পারে কিন্তু মানুষ ,জীবন, সমাজ,জাতি, রাষ্ট্র ও বিশ্বব্যবস্থা আপন রুপে ফিরে আসবে। ঠিকই একদিন অপরাজিত মানুষ নিজের জয়যাত্রার অভিযানে সকল বাধা অতিক্রম করে অগ্রসর হবে কবিতার পথে, মানুষ ফিরে পাবে তার মহৎ মর্যাদা। কবি ম্যাথিউ আর্নল্ডের সাথে দৃঢ়চিত্তে বলতে চায় , “যখন প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম এবং বিভিন্ন তত্ত্ব যা মানুষকে ধারণ করে রয়েছে বা মানুষ যাদেরকে ধারণ করে আছে , সেগুলো যেদিন ব্যর্থ হয়ে যাবে এমন একটা সময় আসবে ,তখন মানুষ কবিতার দিকে ফিরবে”। তার কাছে কবিতাই জীবন, কবিতাই ছন্দ, কবিতাই তত্ত্ব, কবিতাই হবে বিশ্বের মুক্তি। সত্যিই কবিতা মানুষকে সুন্দরের পথে নিয়ে যায়। সহজ অথচ গভীর উচ্চারণের মাধ্যমেই তিনি পাঠকের মনে যে নিজের স্থান করে নিতে সফল হয়েছেন তা বুঝা যায় গত বছর প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থ " নৈরাশ্যের গান"-এর প্রায় হাজার খানেক কপি বিক্রির মাধ্যমে। তার প্রাত্যহিক কাব্য সাধনা প্রায় প্রাযৌক্তিক ও উত্তরাধুনিক স্ক্রিন রিডারদের হৃদয়কে জাগিয়ে রাখুক গভীর ব্যঞ্জনায়- এই প্রত্যাশা রইল।

লেখক পরিচিতি

হুমায়ুন আজাদ

1947 – 2004

হুমায়ুন আজাদ (২৮ এপ্রিল ১৯৪৭ - ১২ আগস্ট ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ; ১৪ বৈশাখ ১৩৫৪ - ২৬ শ্রাবণ ১৪১১ বঙ্গাব্দ) বাংলাদেশের একজন লেখক ছিলেন যিনি বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন খাতে অবদান রেখেছিলেন, তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক, রাজনীতিক ভাষ্যকার, কিশোরসাহিত্যিক এবং গবেষক, পেশাগত জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রথাবিরোধী এবং বহুমাত্রিক লেখক যিনি ধর্মীয় মৌলবাদের বিরোধিতা, রক্ষণশীলতার বিরোধিতা, যৌনতা, নারীবাদ ও রাজনীতি বিষয়ে তার বক্তব্যের জন্য ১৯৮০-এর দশক থেকে পাঠকগোষ্ঠীর দৃষ্টি আর্কষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। হুমায়ুন আজাদের ৭টি কাব্যগ্রন্থ, ১২টি উপন্যাস ও ২২টি প্রবন্ধ এবং সমালোচনা গ্রন্থ, ৭টি ভাষাবিজ্ঞানবিষয়ক, ৮টি কিশোরসাহিত্য ও অন্যান্য প্রবন্ধসংকলন মিলিয়ে ৬০টিরও অধিক গ্রন্থ তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যু পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হয়। ১৯৯২ সালে তার নারীবাদী গবেষণা-সংকলনমূলক গ্রন্থ নারী প্রকাশের পর বিতর্কের সৃষ্টি করে এবং ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সাড়ে চার বছর ধরে বইটি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ছিল। এটি তার বহুল আলোচিত গবেষণামূলক কাজ হিসেবেও স্বীকৃত। এছাড়াও তার পাক সার জমিন সাদ বাদ উপন্যাসটি পাঠকমহলে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। তার রচিত প্রবচন সংকলন ১৯৯২ সালে হুমায়ুন আজাদের প্রবচনগুচ্ছ নামে প্রকাশিত হয়। তাকে ১৯৮৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০১২ সালে সামগ্রিক সাহিত্যকর্ম এবং ভাষাবিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের জন্য মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়। ২০০৩ সালে তার রচিত কিশোরসাহিত্য ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না (১৯৮৫) এবং আব্বুকে মনে পড়ে (১৯৯২) জাপানি ভাষায় অনূদিত হয়েছিলো।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →