বইয়ের পরিচয়

"সোনার হরিণ নেই" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা:সােনার হরিণ নেই’ উপন্যাসটি তৎকালীন ‘অমৃত’ সাহিত্যপত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। 'পুস্তকাকারে দুইখণ্ডের এই বৃহৎ কাহিনীটির প্রথম প্রকাশ কার্তিক, ১৩৮৬ বঙ্গাব্দ। অত্যন্ত সুখপাঠ্য এই উপন্যাসখানি লেখকের নিজস্ব পছন্দের তালিকার অন্যতম এবং প্রিয়তম। ' উপন্যাসের মূল চরিত্র এবং নায়ক বাপী তরফদার । কাহিনীকারেরই অন্তর্লীন সত্তার প্রতিফলন। সে কথা তিনি নিজে স্বীকার করে গেছেন। এবং সে কারণেই উপন্যাসখানি তিনি উৎসর্গ করেছেন তাঁর কায়-মনের যথার্থ অর্ধাঙ্গিনী‘তােমাকে’, স্ত্রী-মমতা মুখােপাধ্যায়কে। এ প্রসঙ্গে আশুতােষ। রচনাবলী ১ম খণ্ডে ‘কিছু কথা’ জীবনআলেখ্যে বর্ণিত হয়েছে। আশুতােষ মুখােপাধ্যায়ের উপন্যাসের পরতে পরতে ছড়ানাে থাকে জীবনের যে ব্যাপ্ত জটিলতা এবং মানবমনের বিচিত্রমুখী বহুগামী বিন্যাস এবং তারপরেও সবকিছুর ঊর্ধ্বে যে বিরাজমান অস্তিত্বের ইতিবাচক সদর্থক। সার্থকতা, এই উপন্যাসের কাহিনীতেও তার ব্যতিক্রম নেই। ‘সােনার হরিণ নেই’-এর নায়ক বাপী তরফদারের যে অনুসন্ধান মানবজীবনের মূল সার্থকতার সােনার চাবিকাঠিটি। আসলে কী’ এবং পার্থিব জগতের সমস্ত কাঙিক্ষত বস্তু। কামিনী-কাঞ্চন, অর্থ-যশ-খ্যাতি, সােনার পাহাড়, হীরের পাহাড়, অতুল বিত্তবৈভবের মণিরত্নের পাহাড়ের পরেও সর্বত্যাগী, যােগী মহাত্মার ‘আগে বাঢ়ো কথাটির আসল অর্থ কোনখানে— সেই নিগুঢ় খোঁজই সাহিত্যিকের নিজেরই আত্মানুসন্ধান। সমস্ত কিছুর প্রাপ্তির পরেও অধরা থেকে যায় ‘সােনার হরিণ তাকে পেতে গেলে খুঁজতে হবে নিজেরই ভেতরে, বাইরে নয়! পাহাড়ি জঙ্গলে ঘােরার সময় কাহিনীর নায়ক বাপী তরফদারের দেখা হয়েছিল। জটাজুট-সমন্বিত ত্রিশূলধারী যে নগ্ন সন্ন্যাসীর,তারই মুখনিঃসৃত ‘আগে বাঢ় মিন্ যায়গা’-বাপীকে সজাগ সচকিত চমকিত করে ঠেলে দেয় চরম আত্মিক উত্তরণে। সেখান থেকেই শুরু হয় ভােগী, বিলাসী, অর্থ প্রতিপত্তিকামী, ঈপ্সিত নারীকে করায়ত্তকারী পুরুষের জীবনের আমূল পালাবদল। এই চারটি শব্দ বারবার তাকে ঠেলে দেয়। সামনে এগােতে তাড়না করে—‘আগে বাঢ়, মিল যায়গা’ সামনে এগােও, পেয়ে যাবে । কী পাবে? নিজের ভেতরেই। সামনে আগে বাড়তে বাড়তে, সামনে এগােতে এগােতে শেষপর্যন্ত সে পেয়ে যায় মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আত্মশুদ্ধি এবং শাশ্বত ঐশ্বর্যের সন্ধান চিরঅধরা সেই ‘সােনার হরিণ। যার বিপুল সম্ভার নিয়ে সে বাস করে মানুষেরই নিজের ভেতরে। তাকে অন্বেষণ করতে করতে খুঁজে পাওয়ার নামই ‘জীবন’। যে জীবনে জীবনের| শেষদিনের শেষ মুহূর্তটি পর্যন্ত বিশ্বাস রেখে গেছেন লেখক।

লেখক পরিচিতি

আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

1864 – 1924

স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় (২৯ জুন ১৮৬৪ - ২৫ মে ১৯২৪)ছিলেন বাঙালি শিক্ষাবিদ, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এছাড়াও তিনি ছিলেন বিশিষ্ট গণিতজ্ঞ। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের দৃঢ়চেতা মন ও মহান কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে 'বাংলার বাঘ' আখ্যায়‌ আখ্যায়িত করা হয়।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →