বইয়ের পরিচয়

"দামেস্কের কারাগারে" বইয়ের পেছনের কভার থেকে:সাত হাজার মর্দে মুজাহিদ নিয়ে ধীর কেশরী তারেক ইবনে যিয়াদ (স্পন আক্রমনের উদ্দেশ্যে পৌঁছেছেন সমুদ্র তীরে। ষােড়শী এক খ্রীষ্টান ললনা ব্যাকুল হয়ে পড়েছে মুসলমান সৈন্যদের সাথে যাবার জন্যে, তার বাবা-মা তাকে যেতে বাধা দিচ্ছে..•••। এ ষােড়শী কে? কেনই বা সে যেতে চায় মুসলিম মুজাহিদদের সাথে••••••••••একদিকে গর্ব-অহংকারে ভরা অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত একলাখ সৈন্যের বিশাল বাহিনী, অপর দিকে জীর্ণ-শীর্ণ, আসবাব-পত্র হীন মাত্র সাত হাজার ফৌজী বাহিনী। একদিকে নেতৃত্বে রয়েছে স্বয়ং স্পেন মুলুকের বাদশাহ রচারিক, অপর দিকে মামুলী সৈনিক বেশে এক মুসলিম মুজাহিদ। এক দিক থেকে ভেসে আসছে গর্ব অহংকারে ভরা রন হুংকার, অপর দিকে ধ্বনিত হচ্ছে “আল্লাহু আকবার’ ধ্বনী। রডারিক ও তার সৈন্যবাহিনী চাচ্ছে মুসলমানদেরকে ঘোড়ার পদতলে পিষে ফেলে ইসলামের নাম নিশানা মুছে ফেলতে আর অপরদিকে তারেক ও মুজাহিদবাহিনী চাচ্ছে স্পেনের বুকে ইসলামের পতাকা উডীন করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাম বুলন্দ করতে। কিন্তু তা কিভাবে ?

লেখক পরিচিতি

এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ

1920 – 1999

এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ জন্মগ্রহণ করেছিলেন একটি রাজপুত পরিবারে ১লা নভেম্বর ১৯২০ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের গুজারখানে। এলাকাটি মার্শাল এরিয়া হিসেবে পরিচিত ছিল ব্রিটিশ আমলে এখান থেকে প্রচুর সৈন্য নিয়োগ দেয়ার কারণে। এনায়েতুল্লাহ এর পরিবারও ঐতিহ্যগতভাবে সৈনিক পরিবার ছিল। ১৯৩৬ সালে তিনি ম্যাট্রিক পাশ করে একজন ক্লার্ক হিসেবে ব্রিটিশ আর্মিতে যোগদান করেন। তিনি একটি পদাতিক ইউনিটে ছিলেন এবং বার্মা ফ্রন্টে জাপানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪৪ সালে জাপানিদের হাতে বন্দি হন। কিন্তু তিনি জেল থেকে পালিয়ে যান। সেখান থেকে পালানোর পরে দুই বছর বার্মার জঙ্গলে ঘুরে বেড়ান। ভারত ফিরে আসার পর আবার ব্রিটিশ সেনাবাহিনিতে যোগদান করেন। কর্তৃপক্ষ তাকে আবার মালয়শিয়া পাঠায় বিদ্রোহ দমন করতে। তিনি মালয়শিয়া এসে খুব কাছে থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন দেখলেন। এটাও অনুধাবন করলেন যে, যাদেরকে বিদ্রোহী বলা হচ্ছে তারা আসলে স্বাধীনতাকামী যোদ্ধা। সমগ্র মালয়শিয়ার জনগণ তাদেরকে বীর মনে করছে এবং তাদেরকে সমর্থন ও সাহায্য করছে। এনায়েতুল্লাহ মতামত ছিল যে, মালয়শিয়ানদের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে। তাছাড়া তিনি নিজেওতো ব্রিটিশদের শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতা চাচ্ছেন। সে সময় তিনি একটি সাহসী ও নির্ভীক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ত্যাগ করেন এবং স্বাধীনতাকামীদের সাথে যোগ দেন। যখন ব্রিটিশরা ভারতের বিভক্তি ও স্বাধীনতা ঘোষণা করে, তখন এটা জেনে তিনি মাতৃভুমিতে ফিরে আসেন। পাকিস্তানে এসে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে একজন কর্পোরাল হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ঐ প্রথম দলটির একজন ছিলেন যারা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আগমনের পর তাকে পেশওয়ার এয়ারপোর্টে স্যালুট করেছিল।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →