বইয়ের পরিচয়

রমজান বিষয়ক প্রায় সকল সহীহ হাদীস যেই বইয়ের মধ্যে পাবেন____________________________ আলহামদুলিল্লাহ, শুরু হলো আমাদের অত্যন্ত প্রিয় গ্রন্থ “সহীহ হাদীসের আলোকে সাওম বিশ্বকোষ” বইয়ের প্রি অর্ডার, বইটি অর্ডারের পূর্বে বইটি সম্পর্কে ফাদিলাতুশ শাইখ, প্রফেসর ড. আবুবকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া (হাফি.) এর মন্তব্য দেখে নেওয়া যেতে পারে তাহলেই বইটির গুরুত্ব বুঝে আসবে ইন শা আল্লাহ। “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর জন্যই সকল হামদ, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিদায়াতের বাণী দিয়ে পাঠিয়েছেন। তাকে দু’ধরনের ওহী দিয়েছেন। একটিকে বলা হয় ওহী মাতলু বা তিলাওয়াত করে সাওয়াবের অধিকারী হওয়ার জন্য প্রদত্ত ওহী, আর তা হচ্ছে কুরআন। দ্বিতীয়টিকে বলা হয় ওহী গাইরে মাতলু বা তিলাওয়াত করে সাওয়াব লাভের জন্য নয়। উভয় প্রকার ওহী মানুষকে সরাসরি হিদায়াতের দিকে ধাবিত করে, আকীদা-বিশ্বাস ও আমল কী হবে তা নির্ধারণ করে দেয়। কুরআনে কারীমে অধিকাংশ বিষয়ে মৌলিক নির্দেশনা প্রদান করেছে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস সে বিষয়টিকে পূর্ণ বর্ণনার মাধ্যমে সহজ করে তুলে ধরেছে। কুরআনের কিছু বিধান মুতলাক বা উন্মুক্ত, হাদীস তা মুকাইয়াদ বা শর্তযুক্ত করেছে। কুরআনের কিছু বিধান আম বা ব্যাপক হিসেবে এসেছে, হাদীস সেটাকে বিশেষত্ব প্রদান করেছে। কুরআনের কিছু বিধান মুজমাল বা সংক্ষিপ্ত আকারে এসেছে, হাদীস সেটার বিস্তারিত বর্ণনা নিয়ে এসেছে। কুরআন কোথাও দ্ব্যর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করেছে, অপরদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে সেটার অর্থকে সন্দেহাতীতভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছে।সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস ও সুন্নাহ যার কাছে যত বেশি জানা থাকবে সে তত বড় আলেম ও জ্ঞানী বিবেচিত হবে। জগতে কুরআন ও হাদীসের সম্মিলিত জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই কোনো মানুষকে মুজতাহিদ, আলেম, ফাযেল ইত্যাদি বলা চলে। কুরআনে কারীমের ইলমের সাথে যার কাছে যত হাদীসের ভাণ্ডার থাকবে তিনি তত বেশি বিপদমুক্ত থাকবেন। এজন্যই সালাফগণ বলতেন, ‘সুন্নাহ হচ্ছে নূহের কিশতি, যে কেউ তাতে আরোহন করবে সে বেঁচে যাবে, আর যে কেউ তাতে আরোহন করা থেকে বিরত থাকবে সে ডুবে মরবে। আলোচ্য গ্রন্থটি তেমনি একটি হাদীস সংকলন, যাতে সাওম (রোযা) বিষয়ক সহীহ হাদীসকে একত্রিক করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর সংকলন যোগ্য মানুষদের দ্বারাই হয়েছে। আর এর সম্পাদনা আল্লাহ আমাকে দিয়ে করিয়েছেন। যে কেউ এ কিতাবে বর্ণিত হাদীসসমূহ পড়বে সে সাওম বিষয়ের অনেক মাসআলার সমাধান তাতে পেয়ে যাবে। বস্তুত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসই মানুষকে সোনার মানুষে পরিণত করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস শোনা, সংরক্ষণ ও অন্যের কাছে স্থানান্তর করলে আল্লাহ সেসব মুহাদ্দিসের চেহারা আলোয় উদ্ভাসিত করে দিবেন বলেও সহীহ হাদীসে সুসংবাদ জানানো হয়েছে। সুতরাং প্রতিটি মুসলিমের ওপর কর্তব্য হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস পড়া, হাদীসের ব্যাখ্যা জানা ও হাদীসের ওপর আমল করা। সাওম বিষয়ক উপর্যুক্ত চাহিদা পূরণার্থে আমাদের এ গ্রন্থটি অনেক কাজে লাগবে বলে আমার বিশ্বাস রয়েছে। আল্লাহর কাছে দো‘আ করি, তিনি যেন আমাদের এ সম্মিলিত প্রচেষ্টা কবুল করেন, আমাদের জন্য তা নাজাতের ওসীলা বানিয়ে দেন। এর পিছনে যারা শ্রম ব্যয় করেছে তাদের সকলকে দুনিয়া ও আখেরাতে পুরষ্কৃত করেন। আমীন। আমীন।প্রফেসর ড. আবুবকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

লেখক পরিচিতি

আব্দুল্লাহ আল মামুন আল-আযহারী

আব্দুল্লাহ আল মাহাদ (৬৯০-৭৬২) হলেন একজন ইসলামী পন্ডিত, ধর্মতত্ত্ববিদ এবং হাদীস বর্ণনাকারী। তিনি হাসান ইবনে আলী এবং হুসেন ইবনে আলীর উভয়ের নাতি। তার পূর্ণ নাম হলো আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হাসান ইবনে আল-হাসান ইবনে আলি ইবনে আবি তালিব আল-হাশিমি আল-কুরাশী। তিনি আবদুল্লাহ আল-মাহাদ, আব্দুল্লাহ আল মাহাজ (বাংলাদেশে) এবং আব্দুল্লাহ আল-কামিল নামেও পরিচিত ছিলেন। তার পুত্রদের মধ্যে মুহাম্মদ এবং ইব্রাহিম আব্বাসীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। ইদ্রিস উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায় বিদ্রোহ করেছিলেন এবং ইদ্রিস রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শিয়াদের মধ্যে তিনি একজন শহীদ হিসাবে বিবেচিত হন। আব্বাসীয় শাসক আল মানসুর তাকে বন্দী করেছিলেন। আল-মনসুর তার বিদ্রোহী পুত্রদের লুকানোর জায়গার ঠিকানা জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা প্রকাশ করতে অস্বীকার করার জন্য বন্দী হন এবং তিন বছর কারাভোগ করার পর তাকে হত্যা করা হয়। ইরাকের আল-শিনাফিয়া শহরে তার সমাধি রয়েছে। বর্তমানে সমাধিটি আবদুল্লাহ আবু নাজমের মাজার বলে পরিচিত।

উইকিপিডিয়ায় আরও পড়ুন ↗ সব বই দেখুন →